যমুনা রেলসেতুতে পরীক্ষামূলক ট্রেন, সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার

যমুনা নদীতে বিদ্যমান বহুমুখী সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মাণ করা হয়েছে স্বতন্ত্র রেলসেতু। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা এ রেলসেতুতে গতকাল পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ট্রেন পরিচালনা করেছে রেলওয়ে।

যমুনা নদীতে বিদ্যমান বহুমুখী সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মাণ করা হয়েছে স্বতন্ত্র রেলসেতু। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা এ রেলসেতুতে গতকাল পরীক্ষামূলকভাবে দুটি ট্রেন পরিচালনা করেছে রেলওয়ে। পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালাতে গিয়ে সর্বোচ্চ গতি তোলা হয় ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারে। এ সময় কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সেতুটি উদ্বোধন করা হতে পারে বলে প্রত্যাশা তাদের।

সেতু নির্মাণ প্রকল্পের চিফ সাইট ইঞ্জিনিয়ার মাইনুল ইসলাম জানিয়েছেন, গতকাল সকাল ৯টা ২০ মিনিটে ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে দুটি ট্রেন সেতুর পূর্ব পাড় থেকে পশ্চিম পাড়ে ও পশ্চিম পাড় থেকে পূর্ব পাড়ে ছেড়ে যায়। এরপর ১০টা ২০ মিনিটের দিকে দ্বিতীয়বার ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার গতিতে দুই পাশ থেকে ট্রেন দুটি সেতু অতিক্রম করে। এরপর ১১টা ১ মিনিটে একটি ট্রেন পশ্চিম পাড় থেকে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার গতিতে সেতুতে ওঠে ও ১১টা ৫ মিনিটে পূর্ব পাড় থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি পশ্চিম পাড়ের সেতুর শেষ অংশ অতিক্রম করে। পরীক্ষামূলকভাবে সেতু অতিক্রমকালে ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ওঠে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এখনো কোনো ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়েনি। আগে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে যেখানে ২০-২৫ মিনিট লাগত, নতুন সেতু দিয়ে নদী পার হতে সময় লাগবে মাত্র আড়াই থেকে ৩ মিনিট।

মূলত সেতুর নানা খুঁটিনাটি বিষয় পর্যালোচনার জন্য পরীক্ষামূলক ট্রেনগুলো চালানো হয়েছে বলে জানালেন প্রকল্প পরিচালক আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমরা পরীক্ষামূলক চলাচলের জন্য দুটি ট্রেন পরিচালনা করেছি। ট্রেন দুটি দিয়ে বিভিন্ন লোডিং কন্ডিশনে সেতুর ওপরে বিভিন্ন গতিতে ট্রেন পরিচালনা করছি। সেতুটি ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক ট্রেনগুলো সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি নিয়ে চলাচল করেছে। আগামী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সেতুটি উদ্বোধন করা হতে পারে।’

বর্তমানে ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম বিদ্যমান বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু। এ সেতু দিয়ে বর্তমানে দিনে সর্বোচ্চ ৩৮টি ট্রেন চলতে পারে। কোনো পণ্যবাহী ট্রেন এ সেতু দিয়ে চলতে পারে না। বিদ্যমান সেতুর উজানে নির্মিত স্বতন্ত্র রেল সেতুটি চালু হলে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৮৮টি ট্রেন চলতে পারবে এবং পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের সীমাবদ্ধতাও দূর হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

তাদের ভাষ্যমতে, ট্রেন চলাচল বৃদ্ধির পাশাপাশি ভ্রমণের সময় কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সেতুটি। বিদ্যমান বহুমুখী সেতু দিয়ে একটি ট্রেন যমুনা পার হতে ২০ মিনিটের বেশি সময় নেয়। সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় অনেক সময় পারাপারের শিডিউল পেতে ট্রেনগুলোকে অপেক্ষায়ও থাকতে হয়। নির্মিত স্বতন্ত্র সেতুটি দুই লাইন হওয়ায় নিরবচ্ছিন্নভাবে ট্রেন চলতে পারবে।

যমুনা রেলসেতু নির্মাণে খরচ হচ্ছে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১২ হাজার ১৫০ কোটি টাকা জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণ। ২০১৬ সালের জুনে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত (এক বছর ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ডসহ)।

আরও